1. admin@bengalijatiyotabad.com : bengali jatiyotabad : bengali jatiyotabad
বিআইডব্লিউটিএতে মাজহারের দাদাগিরি ও সম্পদের পাহাড়; আওয়ামী আমলেও ছিল ত্রাসের রাজত্ব! - bdconlinenews.com
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
Title :
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের নতুন চেয়ারম্যান খোন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু লৌহজংয়ের সন্তান মতিউর রহমান রিয়াদ—বিশ্ব আকাশ প্রতিরক্ষায় বাংলাদেশের এক গর্বিত মুখ ​ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের কারসাজি: ওয়াসার ওয়াটার এটিএম প্রকল্পের ১৫০ কোটি টাকা লোপাট করে ড্রিঙ্কওয়েলের নিয়ন্ত্রণে মিনহাজ চৌধুরী জুলাই অভ্যুত্থানে বীর যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ইমনের আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম আন্দোলনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন চান এড. শাহিন সুলতানা সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে খাষপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে তরুণ মুখ জামাল উদ্দিন ফারুকীর দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সহযোগী এবং দলীয় প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত দোসরদের প্রতিহত করতে হবে! ডেমরায় পুলিশের নাকের ডগায় ত্রাসের রাজত্ব; এলাকায় ঘুরছে বহু মামলার আসামি কাইয়ুম সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই; ১৫ আগস্ট কেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল? নতুন প্রজন্মের উপলব্ধি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই; ১৫ আগস্ট কেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল?

বিআইডব্লিউটিএতে মাজহারের দাদাগিরি ও সম্পদের পাহাড়; আওয়ামী আমলেও ছিল ত্রাসের রাজত্ব!

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৯৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক,
কে এই মাজহারুল? ​কীভাবে চলে বদলি ও কমিটি বাণিজ্য এবং ঘুষ লেনদেন? ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন দল বদল করে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মাজহারুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘদিন শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দাপট দেখালেও ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি তিনি বনে যান ‘জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল’র নেতা। নিজেকে বিআইডব্লিউটিএ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও সিবিএর (রেজি. নম্বর-২১৭৬) স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে গড়ে তুলেছেন এক ত্রাসের রাজত্ব। তাঁর পেশিশক্তি ও দাদাগিরিতে বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিআইডব্লিউটিএ-র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের দিনই মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএ ভবনে হামলা চালিয়ে নিচতলার সিবিএর প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে জোরপূর্বক তা দখল করেন মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারী বিএনপি-সমর্থিত কিছু কর্মচারী। অথচ ২০২২ সালে বিআইডব্লিউটিএ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অনুমোদিত কমিটি থাকলেও কোনো ধরনের নিয়ম বা কাউন্সিলের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজেকে ওই সংগঠনের সভাপতি ঘোষণা করেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিআইডব্লিউটিএ জাতীয় শ্রমিক লীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই মাজহার। ২০১৯ সালে টাঙ্গাইল-২ আসনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে মাজহারকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে প্রভাবশালী কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি ঠিকই প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন এবং শুরু করেন তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার।

​মাজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। নিজ সংগঠনের পদধারী নেতা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ—কাকেই ছাড় দিচ্ছেন না তিনি। গত ৬ নভেম্বর ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিআইডব্লিউটি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মাজহারকে ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেন। এর জের ধরে গত ১১ নভেম্বর মজিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুল হক সংস্থার কার্যালয়ে এলে মাজহার ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করতে করতে মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাতে মজিবুরের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে পরদিন কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আতঙ্কে থানার মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন আজিজুল হক; পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। তবে ১০ ডিসেম্বর আবারও সংস্থার কার্যালয়ে গেলে আজিজুলের ওপর হামলা চালান মাজহার। কারাগারে থাকা মজিবুর রহমান পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেলেও এই মামলায় আসামি করা হয় সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার দাসকেও। অথচ ঘটনার সময় সঞ্জীব চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন।

​গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে সঞ্জীব কুমার দাস জানান, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছেলেও সম্প্রতি কার্যালয়ে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালান মাজহার। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

​সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ, বদলি এবং ‘পুনঃবদলি না করার প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে আওয়ামীপন্থী সিবিএর নেতাসহ সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মাজহার। বিশেষ করে সিবিএর তিন নেতার কাছ থেকেই প্রায় ৭০ লাখ টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার দাস শ্রম আদালতে নিজের বদলি স্থগিতের আবেদন ও মাজহারের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসায় তাঁর বিরুদ্ধেও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ​নিজেকে শ্রমিক দলের দাবি করলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় জুড়েই বহাল তবিয়তে ছিলেন মাজহার। শ্রমিক লীগ ও সিবিএর পদ পদবি ব্যবহার করে সে সময় তিনি বাগিয়ে নেন নানা অনৈতিক সুবিধা। ​২০১৩ সালে চাঁদপুরে কর্মরত থাকাকালে এক কর্মচারীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে নিজের প্রভাব ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সেই কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেন।

​আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নিজের দুই ভাইকে বিআইডব্লিউটিএতে চাকরি পাইয়ে দেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর ভাই জাহিদুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণির ‘ষাট মুদ্রাক্ষরিক’ পদে নিয়োগ পেয়েও গত পাঁচ বছর ধরে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিও) পদ জবরদখল করে আছেন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও ভাইয়ের প্রভাবে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদ উপভোগ করছেন। এমনকি জাহিদ এক মেয়াদে সিবিএর সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

​মাজহারের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তাঁর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের বিলচাপড়া গ্রামের বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন।
​ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী আমলেই ঢাকার সাভারে একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তবে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ও সম্পদের পাহাড় আড়াল করতে ওই বাড়িটির মালিক হিসেবে নিজের শ্বশুরের নাম ব্যবহার করেছেন তিনি। ​সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মাজহারুল ইসলাম দাবি করেন, “আমি ২০১৫ সাল থেকে শ্রমিক দল করি এবং ২০১৬ সালে এই সংগঠনের পদে এসেছি। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগের পদ দেওয়া হলে তা জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি লিখিতভাবে অব্যাহতি নিয়েছি।”

​তিনি আরও বলেন, “হাইকোর্টের রায়েই বিআইডব্লিউটিএ সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এবং খুব দ্রুতই সিবিএর নির্বাচন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। মজিবুর রহমানকে আমি কারাগারে পাঠাইনি, তিনি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। মজিবুর ও আজিজুল কার্যালয়ে তাদের ইউনিয়নের ব্যানার খুলে নিতে এলে আমি কেবল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম, কাউকে মারধর করিনি। আর সঞ্জীব কিছু কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন, যে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছি।” ​কর্মচারী বদলি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করেছে, যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সাভারের বাড়িটিও তাঁর শ্বশুর নিজ অর্থে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

​স্বঘোষিত এই সভাপতির দুর্নীতি, দখলদারি, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী, নৌপরিবহন সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
​(চলবে)

বিস্তারিত আসছে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews