
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের হটানো না পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দ্ব্যর্থহীন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগসাজশ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (সর্বশেষ কর্মসূচি অনুযায়ী) ঢাকার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ আন্দোলন দানা বাঁধে। বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার মধ্য থেকে বিতর্কিত ১১৩ জনের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।
বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৩০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ৮৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের (এএজি) সঙ্গে অতীতে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পেশাগত যোগ্যতা, মেধা বা অতীতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এই নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। এই পুরো বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের (বিজেএএফ) সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিশ্চিত করে বলেন, “নতুন নিযুক্তদের অনেকেই কখনো জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। দুর্নীতির মাধ্যমে করা যেকোনো নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর এবং এর সাথে জড়িতদের অবশ্যই দায় নিতে হবে।”
সমাবেশে জোরালো বক্তব্য রাখেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী শাহীন সুলতানা। তিনি তাঁর বক্তব্যে ফ্যাসিবাদ আমলের দোসরদের পুনর্বাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যাঁরা অতীতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবাস ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আজ তাঁদের বঞ্চিত করে বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্টদের অনুচরদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইন পদে বসানো হয়েছে। এই অবিচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বিগত দিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সক্রিয় এবং যোগ্য আইনজীবীদের এই পদে নিয়োগ দিতে হবে।”
সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী আইন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো বক্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজালের পদত্যাগ দাবি করে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, তাঁর দপ্তরে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো স্থান হতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর উইং থেকে দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্বের সব নিয়োগ বাতিল করে ৮৬ জন নতুন ডিএজি এবং ১৭৯ জন নতুন এএজি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর জের ধরেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা গত ২ ও ৩ আগস্ট থেকে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
অ্যাডভোকেট শরীফ ইউ আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী, অ্যাডভোকেট এ এম শওকাতুল হক, আইয়ুব আলী আশরাফী, রেজাউল করিম, শাহরিয়ার কাকন, রাশিদা আলিম ঐশী, আনোয়ারা শিখা, সারোয়ার আকরাম খান, ওহিদুল ইসলাম অপু, আমিরুল ইসলাম শানু, সাবিনা ইয়াসমিন, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, আবদুল্লাহ লিপি, আবদুল্লাহ আল মাহবুবুর রহমান, আলহাজ আলী, কোহিনুর পাপড়ি, হাবিবুর রহমান, আনিসুর রহমান খান ও আবদুস সামাদ প্রমুখ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা আগামী ৬ আগস্ট ব্যাপক প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
Leave a Reply