বিশেষ প্রতিনিধি,
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ‘সাবেক সারথী’রা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক শাখা সভাপতি মজনু মিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কমিটিতে রানভীন খানকে আহ্বায়ক এবং মাহাথির মুহাম্মদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আবদুল্লাহ আল কাফি। আর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন জাহিদ হাসান, সাদীদ আহনাফ, তানজিম ওয়াসেত, মো. মাসুম, নাদিম আঞ্জুম খান ও মো. নাঈম হোসেন। এর মধ্যে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উভয়ে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, ৯ সদস্যের এই কমিটির প্রায় প্রত্যেকেই অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কমিটিতে আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি না থাকলেও ছাত্রলীগের সভা-সমাবেশে তাদের সরব উপস্থিতি ছিল। এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাফি অতীতে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে এসেছে।
উক্ত জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ২০১৫ সালে ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। এ ছাড়া সলিমুল্লাহ মেডিকেলে ছাত্রলীগ, আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং স্বাচিপের দখলে থাকা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কর্মসূচিতে তার সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোলায়মান সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি অংশ নেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম আহ্বায়ক সাদীদ আহনাফ গণমাধ্যমকে বলেন, "সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ যখন ছাত্রলীগের দখলে ছিল, তখন প্রত্যেককেই বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যেতে হতো। তবে সিনিয়র হওয়ার পর আমরা এসব কর্মসূচিতে যাওয়া বন্ধ করে দিই। যারা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে গিয়েছে, প্রত্যেকেই বাধ্য হয়েই গিয়েছে। সলিমুল্লাহ মেডিকেলের পরিবেশটাই এমন ছিল। এ ছাড়া আমরাও শিবির ও ছাত্রদল সন্দেহে নির্যাতনের শিকার হয়েছি।"
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক রানভীন খানও। তিনি বলেন, "হলে থাকার জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যায়নি, এমন ছাত্র সলিমুল্লাহ মেডিকেলে খুব কম আছে। প্রায় প্রত্যেকেই এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে গিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এমনকি পরীক্ষার সময়ও কর্মসূচিতে যেতে হতো। তবে জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আমরা ছাত্রলীগকে প্রতিহত করেছি।"
আব্দুল্লাহ আল কাফির জীবনবৃত্তান্তের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "এটি আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না। এটি ফেকও হতে পারে।"